‘আলোকচিত্রে বদলাই চিন্তার দৃষ্টিকোণ’ প্রতিপাদ্যে গণ বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফিক সোসাইটি (জিবিপিএস) এবং গণস্বাস্থ্য সমাজ ভিত্তিক মেডিকেল কলেজ ফটোগ্রাফি ক্লাব (জিএসভিএমসিপিসি)-এর যৌথ উদ্যোগে জমকালো ‘আলোকচিত্র উৎসব’ হয়ে গেল সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে৷ ২৩ মার্চ (বুধবার) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে উৎসবটি উদযাপিত হয়।
বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে যোগ দেন জাতিসংঘ জনসংখ্যা পুরস্কারে ভূষিত প্রথম বাংলাদেশি নারী ডা. হালিদা হানুম আক্তার, বাংলাদেশের প্রথম ফি-আপ স্বর্ণপদক লাভকারী আলোকচিত্রশিল্পী হাসান সাইফুদ্দীন চন্দন ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘একা কিছু করা যায় না। সবাই মিলে অনেক কিছু করা যায়। তার উদাহরণ আজকের এই আলোকচিত্র উৎসব।’
‘আমার চোখে গবি ক্যাম্পাস’ এবং ‘মহামারীতে জীবন’ শিরোনামে ছবি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে দুই সংগঠন। এছাড়াও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত হয় মাসিক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা। এতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত মোট ৪২টি ছবি প্রদর্শন ও পুরস্কৃত করা হয়।
সেই সাথে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ফটোগ্রাফির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের স্মৃতিচিহ্নগুলো তুলে ধরার উদ্দেশ্যে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পর্যায়ের ছবি প্রতিযোগিতা ‘পিএইচপিসি বিশেষ আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা-২০২১’ বিজয়ী ২৯টি ছবি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর এটিএম হায়দার (বীর উত্তম)-এর বিশেষ ১টি ছবি, ১৯৭৪ সালে ‘বিচিত্রা’ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে প্রকাশিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ১টি ছবিসহ মোট ৭৪টি ছবি নিয়ে দিনব্যাপী প্রদর্শনী করা হয়।
দিনব্যাপী জমকালো আয়োজনের সূচনা ঘটে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীতের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা ও উভয় ক্লাবের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে। উপস্থিত সকলকে লাল-সবুজ পতাকা উপহার দেয়া হয়। বিশেষ অতিথিরা আসন গ্রহণ করে বিজয়ীদের হাতে সনদ, বই, প্রাইজ বন্ড ও বিভিন্ন উপহার তুলে দেন। এছাড়াও ৪২ জন বিজয়ী পেয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র কর্তৃক প্রকাশিত 'সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ'-এর ছবি সম্বলিত একটি বিখ্যাত পোস্টার।
বিশিষ্ট অণুজীববিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীলকে উভয় ক্লাবের পক্ষ থেকে ‘কোভিড-১৯ হিরো’ সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন ক্লাবের সভাপতি ও শিক্ষক উপদেষ্টাগণ। পরে ফিতা কেটে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। মধ্যাহ্নভোজন শেষে আইকিউএসি সভাকক্ষে দেশের প্রথম ফি-আপ স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত আলোকচিত্রশিল্পী হাসান সাইফুদ্দীন চন্দন অর্ধ-শত শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ‘বেসিক ফটোগ্রাফি কর্মশালা’ পরিচালনা করেন। প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে দেয়া হয় সনদ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (চলতি দায়িত্ব) ড. মোঃ আবুল হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক মো. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ এস তাসাদ্দেক আহমেদ, আইকিউএসি'র পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. লায়লা পারভীন বানু, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. মনজুর কাদির আহমেদ, মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, চিকিৎসক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মীবৃন্দ। গণ বিশ্ববিদ্যালয় মিউজিক কমিউনিটি, ক্যাম্পাস পড়ুয়া ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের যৌথ অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পর্বের মধ্য দিয়ে সন্ধ্যায় আলোকচিত্র উৎসবের ইতি ঘটে।
জিবিপিএস সভাপতি মোঃ রাকিবুল হাসান বলেন, ‘আলোকচিত্রে বদলাই চিন্তার দৃষ্টিকোণ প্রতিপাদ্যে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২য় বারের মতো ছবি প্রতিযোগিতার ইতি ঘটলো। যারা আলোকচিত্র উৎসবকে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য অনুপ্রেরণা ও সাহায্য করেছেন তাদেরকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। প্রত্যাশা করি পরবর্তীতেও সোসাইটির পাশে থাকবেন।”
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (চলতি দায়িত্ব) ড. মোঃ আবুল হোসেন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের প্রতিটি ভালো কাজে পাশে আছে। আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ।”